YouVersion Logo
Search Icon

উপদেশক 12

12
1ভুলে থেক না স্রষ্টাকে তোমার, পরিণত বয়সে দুঃসময় ঘনালে যেন তোমাকে বলতে না হয়, ‘সব শূন্য, অসার, সব অর্থহীন’। 2জীবনের সেই সায়াহ্নবেলায় যখন সূর্য, চন্দ্র, তারার আলো তোমার চোখে ক্ষীণ ও নিষ্প্রভ হয়ে আসবে, মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যাবে তোমার আকাশ, 3তোমার যে বাহু এখন রক্ষা করে তোমায় সেদিন তা হবে দুর্বল, তোমার যে চরণ এখন শক্ত সমর্থ, সেদিন তা হবে শিথিল, স্বল্প দন্তরাজি থাকায় তোমার খাদ্যগ্রহণ হবে যন্ত্রণাদায়ক, তোমার চোখের দৃষ্টি হবে ক্ষীণ। 4তখন তুমি শুনতে পাবে না পথের কোলাহল, চক্রের ঘর্ঘর কিম্বা গানের সুর আসবে না কানে তোমার, পাখির কাকলিও হবে ক্ষীণ। 5উঁচু জায়গায় যেতে ভয় লাগবে তোমার, প্রতিটি পদক্ষেপ হবে বিপজ্জনক, তোমার মাথার কেশ আর থাকবে না কালো, চলাফেরাতেও কষ্ট হবে তোমার, শেষ হয়ে যাবে কামনা-বাসনা।
মানুষ এগিয়ে চলেছে চিরবিশ্রামের দিকে, সেদিন পথে হবে শোক মিছিল। 6-7রূপোর শিকল যেমন ছিঁড়ে যায়, পড়ে ভেঙ্গে যায় সোনার প্রদীপ, কুয়োর দড়ি যেমন ছিঁড়ে পড়ে, ভেঙ্গে চুরমার হয় জলের কলস, তেমনি আমাদের এ দেহও মিশে যায় ধূলায়, প্রাণবায়ু ফিরে যায় ঈশ্বরের কাছে, যিনি তা দিয়েছিলেন আমাদের। তাই স্মরণে রেখ তাঁকে।
8উপদেশক তাই বলছেন, সবই দুর্বোধ্য, সব হেঁয়ালি।
উপসংহার
9উপদেশক ছিলেন প্রাজ্ঞ ব্যক্তি, তাই তিনি সকলকে শিক্ষা দিতেন এইভাবে। তিনি সমস্ত প্রবচন অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণ করে এবং সেগুলির সত্যতা যাচাই করে সকলের সামনে তুলে ধরতেন। 10উপদেশক এর মধ্যে দিয়ে মানুষকে জোগাতেন সাহস ও প্রেরণা, যা কিছু তিনি লিখে গেছেন সবই অকপট সত্য কথা। 11প্রাজ্ঞ ব্যক্তির বচন অঙ্কুশের মত তীক্ষ্ণ, তাঁর প্রবাদ সঙ্কলনগুলি দৃঢ়ভাবে প্রোথিত পেরেকের মতই দীর্ঘস্থায়ী।
12সকল প্রজ্ঞার উৎস এই মহাজ্ঞান আমাদের পরম প্রভু বিশ্বনিয়ন্তারই দান। বৎস, আর একটি বিষয়ে সতর্ক থেক, গ্রন্থ রচনার শেষ নেই, শেষ নেই অনুসন্ধানেরও, এসব শুধু ক্লান্তি আনে দেহমনে।
13সব কিছুরই শেষে একটি কথাই শুধু বলতে চাই, ‘ঈশ্বরকে সম্ভ্রম কর, পালন কর তাঁর আদেশ।’ কারণ এই-ই হল মানুষের একমাত্র কর্তব্য। 14মনে রেখ, ঈশ্বর আমাদের ভালমন্দ সব কাজের, এমনকি সঙ্গোপনে যা করা হয়েছে সে সবেরও বিচার করবেন।

Highlight

Copy

Compare

Share

None

Want to have your highlights saved across all your devices? Sign up or sign in