YouVersion Logo
Search Icon

ইয়ারমিয়া 14

14
খরা, দুর্ভিক্ষ ও যুদ্ধ
1ভারী অনাবৃষ্টির বিষয়ে ইয়ারমিয়ার কাছে মাবুদের এই কালাম নাজেল হল। 2এহুদা শোক করছে, তার নগর-দ্বারগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে, সেসব মলিন অবস্থায় ভূমিতে পড়ে আছে; আর জেরুশালেমের আর্তরব উর্ধ্বে উঠছে। 3তাদের প্রধানেরা নিজ নিজ অধীনদের পানির জন্য পাঠায়; তারা গর্তগুলোর কাছে এসে একটুও পানি পায় না, শূন্য পাত্র হাতে করে ফিরে যায়; তারা লজ্জিত ও বিষণ্ন হয়ে মাথা ঢেকে রাখে। 4দেশে বৃষ্টি না হওয়াতে ভূমি নিরাশ হয়েছে বলে কৃষকেরা লজ্জা পেয়ে নিজ নিজ মাথা ঢেকে রাখে। 5এমন কি, ঘাস নেই বলে হরিণীও মাঠে প্রসব করে শিশু ত্যাগ করে চলে যায়। 6বন্য গাধাগুলো গাছপালাহীন পাহাড়ে দাঁড়িয়ে শিয়ালদের মত বাতাসের জন্য হাঁপায়; ঘাস না থাকাতে তাদের চোখ ক্ষীণ হয়েছে।
7যদিও আমাদের অপরাধগুলো আমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছে, তবুও, হে মাবুদ, তুমি তোমার নামের অনুরোধে কাজ কর; আমরা তো নানাভাবে বিপথগামী হয়েছি; আমরা তোমারই বিরুদ্ধে গুনাহ্‌ করেছি। 8হে ইসরাইলের আশাভূমি, সঙ্কটকালে তার উদ্ধারকর্তা, কেন তুমি এই দেশে প্রবাসী কিংবা এক রাতের পথিকের মত হও? 9কেন তুমি স্তম্ভিত মানুষের মত, উদ্ধার করতে অসমর্থ বীরের মত হও? তবুও হে মাবুদ, তুমি আমাদের মধ্যবর্তী, আর আমাদের উপরে তোমার নাম কীর্তিত; আমাদেরকে পরিত্যাগ করো না।
10মাবুদ এই জাতির বিষয়ে এই কথা বলেন, তারা এভাবেই ভ্রমণ করতে ভালবাসে, নিজ নিজ পা থামায় নি; এই কারণে মাবুদ তাদেরকে গ্রাহ্য করেন না; তিনি এখন তাদের অপরাধ স্মরণ করবেন, তাদের গুনাহ্‌গুলোর প্রতিফল দেবেন।
11মাবুদ আমাকে আরও বললেন, তুমি এই জাতির পক্ষে মঙ্গল মুনাজাত করো না। 12তারা রোজা করলেও আমি তাদের কাতরোক্তি শুনবো না, পোড়ানো-কোরবানী ও নৈবেদ্য কোরবানী করলেও তাদেরকে গ্রাহ্য করবো না, কিন্তু আমিই তলোয়ার, দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দ্বারা তাদেরকে সংহার করবো।
মিথ্যাবাদী নবীদের শাস্তি ঘোষণা
13তখন আমি বললাম, হায়, সার্বভৌম মাবুদ! দেখ, নবীরা তাদেরকে বলছে, তোমরা তলোয়ার দেখবে না, তোমাদের প্রতি দুর্ভিক্ষ ঘটবে না, কারণ আমি এই স্থানে তোমাদেরকে সত্যিই শান্তি দেব। 14তখন মাবুদ আমাকে বললেন, সেই নবীরা আমার নামে মিথ্যা ভবিষ্যদ্বাণী বলে; আমি তাদেরকে প্রেরণ করি নি, তাদেরকে হুকুম দিই নি, তাদের কাছে কথা বলি নি; তারা তোমাদের কাছে মিথ্যা দর্শন ও মন্ত্র, অবস্তু ও নিজ নিজ হৃদয়ের প্রতারণামূলক ভবিষ্যদ্বাণী বলে। 15এজন্য যে নবীরা আমার নামে ভবিষ্যদ্বাণী বলে, আমি তাদেরকে না পাঠালেও বলে, এই দেশে তলোয়ার কি দুর্ভিক্ষ উপস্থিত হবে না, তাদের বিষয়ে মাবুদ এই কথা বলেন, তলোয়ার ও দুর্ভিক্ষ দ্বারা সেই নবীদের বিনাশ হবে। 16আর তারা যে জাতির কাছে ভবিষ্যদ্বাণী বলে, সে জাতি দুর্ভিক্ষ ও তলোয়ারের দরুন জেরুশালেমের পথে পথে নিক্ষিপ্ত হবে এবং তাদের ও তাদের স্ত্রী ও পুত্রকন্যাদেরকে কবর দেবার জন্য কেউ থাকবে না; কারণ আমি তাদের নাফরমানীকে তাদের উপরে ঢেলে দেব। 17আর তুমি তাদেরকে এই কথা বল, দিনরাত আমার চোখ থেকে পানির ধারা পড়ুক, তা নিবৃত্ত না হোক, কেননা আমার জাতির কুমারী কন্যা মহাভঙ্গে ও বিষম আঘাতে ভগ্ন হল। 18আমি যদি বের হয়ে ক্ষেতে যাই, তবে দেখ, তলোয়ারের আঘাতে নিহত লোক; যদি নগরে প্রবেশ করি, তবে দেখ, ক্ষুধায় অসুস্থ হওয়া লোক; কারণ নবী ও ইমাম উভয়ে দেশ পর্যটন করে, কিছুই জানে না।
করুণার জন্য নিবেদন
19তুমি কি এহুদাকে নিতান্তই অগ্রাহ্য করেছ? তোমার প্রাণ কি সিয়োনকে ঘৃণা করেছে? তুমি আমাদেরকে কেন এমন আঘাত করলে যে, আমারা সুস্থ হতে পারছি না? আমরা শান্তির অপেক্ষা করলাম, কিছুই মঙ্গল হল না; সুস্থতার সময়ের অপেক্ষা করলাম, আর দেখ, উদ্বেগ! 20হে মাবুদ, আমরা আমাদের নাফরমানী ও আমাদের পূর্বপুরুষদের অপরাধ স্বীকার করছি; কারণ আমরা তোমার বিরুদ্ধে গুনাহ্‌ করেছি। 21তুমি তোমার নামের অনুরোধে আমাদের ঘৃণা করো না, তোমার মহিমার সিংহাসনকে অনাদরের পাত্র করো না; আমাদের সঙ্গে তোমার নিয়ম স্মরণ কর, ভঙ্গ করো না। 22জাতিদের অসার দেবতাদের মধ্যে এমন কে আছে যে বৃষ্টি দিতে পারে? কিংবা আসমান কি পানি বর্ষণ করতে পারে? হে মাবুদ, আমাদের আল্লাহ্‌, তুমিই কি সেই বৃষ্টিদাতা নও? এজন্য আমরা তোমার অপেক্ষায় থাকব, কেননা তুমিই এসব করে থাক।

Highlight

Share

Compare

Copy

None

Want to have your highlights saved across all your devices? Sign up or sign in