গীতসংহিতা 18
18
দাউদের বিজয় সঙ্গীত
(২ শমু 22:1-51)
প্রভু পরমেশ্বরের সেবক দাউদের ভজন
(সঙ্গীত পরিচালকের জন্য)
যেদিন প্রভু পরমেশ্বর শৌল ও অন্যান্য শত্রুদের হাত থেকে দাউদকে উদ্ধার করলেন সেদিন দাউদ প্রভুর উদ্দেশে এই গীত নিবেদন করেছিলেন।
1হে প্রভু পরমেশ্বর তুমিই আমার শক্তির আধার,
তোমাকেই আমি ভালবাসি।
2প্রভু পরমেশ্বরই আমার আশ্রয় দুর্গ,
আমার উদ্ধারকর্তা, আমার ঈশ্বর,
আমার সুদৃঢ় শৈল, আমি নিয়েছি তাঁরই শরণ তিনিই আমার ঢালস্বরূপ,
আমার পরিত্রাতা, নিরাপদ গিরি দুর্গ আমার।
3আমি যখনই তাঁকে করি আহ্বান,
তিনি উদ্ধার করেন আমায় শত্রুর হাত থেকে তিনিই স্তব ও স্তুতির যোগ্য,
তাঁকেই আমি করি নিবেদন আমার স্তুতি ও বন্দনা।
4মৃত্যুর বন্ধনে আমি ছিলাম আবদ্ধ,
হয়েছিলাম বিধ্বস্ত সর্বনাশের বন্যায়,
মৃত্যুর বিভীষিকা গ্রাস করেছিল আমায়।
5পাতালপুরীর রজ্জুতে আমি ছিলাম আবদ্ধ,
মরণের ফাঁদ পাতা ছিল আমার সম্মুখে।
6সেই সঙ্কটে আমি ডাকলাম প্রভু পরমেশ্বরকে,
আমার ঈশ্বরের কাছে জানালাম আর্তনিবেদন।
তাঁর মন্দির থেকে তিনি শুনলেন আমার রব,
আমার আর্তনাদ পৌঁছাল তাঁর শ্রবণে।
7তখন প্রজ্বলিত হল তাঁর ক্রোধ,
টলে উঠল পৃথিবী, হল কম্পমান,
বিচলিত হল পর্বতরাজির ভিত্তিমূল।
8তাঁর নাসারন্ধ্র থেকে উদ্গীর্ণ হল ধূম,
মুখ থেকে নির্গত হল সর্বগ্রাসী অগ্নিশিখা ও জ্বলন্ত অঙ্গাররাশি।
9আকাশমণ্ডল অবনত করে তিনি নেমে এলেন,
তাঁর পদতলে ছিল ঘোর অন্ধকার।
10করূবপৃষ্ঠে আরোহণ করে তিনি হলেন উড্ডীন,
দুরন্ত ঝড়ের ডানায় ভর করে উড়ে এলেন তিনি।
11অন্ধকারের আবরণে নিজেকে করলেন আবৃত,
আকাশের ঘোর ঘনঘটায় ঘিরলো তাঁর শিবির।
12তাঁর তেজদৃপ্ত মুখ থেকে নির্গত হল
শিলা ও জ্বলন্ত অঙ্গার রাশি,
ধাবিত হল মেঘপুঞ্জ ভেদ করে।
13প্রভু পরমেশ্বর আকাশ থেকে করলেন বজ্রনাদ,
শিলাবৃষ্টি ও জ্বলন্ত অঙ্গার বর্ষণের শব্দের মাঝে ধ্বনিত হল পরাৎপরের কণ্ঠস্বর।
14শর নিক্ষেপ করে তিনি তাদের করলেন ছিন্নভিন্ন,
অসংখ্য বিদ্যুৎচমকে তারা হল ছত্রভঙ্গ।
15শত্রুদের প্রতি তোমার দৃপ্ত ক্রোধে,
হে প্রভু পরমেশ্বর, তোমার নাসারন্ধ্র থেকে নির্গত তপ্ত নিঃশ্বাসে
সাগরের মোহানা তখন হল উন্মুক্ত,
মর্ত্যভূমির ভিত্তি হল অনাবৃত।
16ঊর্ধ্ব থেকে হস্ত বিস্তার করলেন তিনি ধারণ করলেন আমায়,
উদ্ধার করলেন অতল জলের মাঝ থেকে।
17তারা ছিল আমার চেয়ে শক্তিমান,
তাই প্রবল প্রতিপক্ষের কবল থেকে,
আমার বিদ্বেষীদের গ্রাস থেকে রক্ষা করলেন তিনি আমায়।
18বিপন্ন অবস্থায় তারা আমায় করল আক্রমণ
কিন্তু প্রভু পরমেশ্বর হলেন আমার সহায়।
19তিনি আমায় মুক্ত করলেন বিপদ থেকে,
উদ্ধার করলেন আমায়, কারণ আমার উপর তিনি ছিলেন প্রসন্ন।
20আমার সততা অনুসারেপ্রভু পরমেশ্বর পুরস্কৃত করলেন আমায়।
আমার হাত ছিল অমলিন তাই তিনি আমায় ধন্য করলেন আশীর্বাদে।
21কারণ আমি তাঁরই নির্দেশিত পথে চলেছি,
মন্দের বশে আমার ঈশ্বরকে করিনি পরিত্যাগ।
22আমি পালন করেছি তাঁর সকল অনুশাসন।
লঙ্ঘন করিনি তাঁর নির্দেশমালা।
23তাঁর দৃষ্টিতে আমি ছিলাম নিষ্কলঙ্ক,
নিবৃত্ত করেছিলাম নিজেকে কুকর্ম থেকে।
24তাই আমার সততা অনুসারে প্রভু পরমেশ্বর পুরস্কৃত করলেন আমায়।
কারণ তাঁর দৃষ্টিতে আমার হাত ছিল অমলিন।
25যারা তোমার অনুগত তাদের প্রতি তুমি চির বিশ্বস্ত,
সদাচরণ যারা করে, তাদের প্রতি তোমারও আচরণ যথাযোগ্য।
26শুদ্ধাচারীর কাছে তুমি প্রকাশ কর নিজের বিশুদ্ধতা,
কুটিলের প্রতি তুমি নির্মম।
27দীন দরিদ্রকে তুমি কর উদ্ধার,
চূর্ণ কর দাম্ভিকের দম্ভ।
28তুমিই আমার প্রদীপ,
হে আমার আরাধ্য ঈশ্বর,
প্রভু পরমেশ্বর,
তুমি আলোকিত কর আমার অন্ধকার।
29তুমি আমার সহায় হলে বিধ্বস্ত করতে পারি আমি সেনাবাহিনীকে,
আমার ঈশ্বরের সাহায্যে ভাঙ্গতে পারি আমি শত্রুর সব প্রতিরোধ।
30তুমিই ঈশ্বর, সুমহান তোমার কীর্তিরাজি
অবিচল তুমি প্রতিশ্রুতি রক্ষায়,
শরণাগতকে তুমি আড়াল করে থাক ঢালের মত।
31সর্বাধিপতি প্রভুই একমাত্র ঈশ্বর,
তিনিই আমাদের একমাত্র আশ্রয়।
32এই ঈশ্বরই আমাকে করেছেন পরাক্রান্ত,
আমার পথকে করেছেন নিরঙ্কুশ।
33তিনি হরিণীর মত ক্ষিপ্রগতি করেছেন আমার চরণযুগল,
নিরাপদ পর্বতশীর্ষে রেখেছন আমায়।#হিব্রু 3:19
34তিনি আমার এই হাত দুখানিকে শেখান রণকৌশল,
তাই আমার বাহুদ্বয় অনায়াসে নোয়াতে পারে তাম্রধনু।
35তোমার দেওয়া পরিত্রাণ আমার ঢালস্বরূপ,
তোমার পরাক্রম আমাকে ধারণ করে রেখেছে,
তোমার মহানুভবতা আমাকে করেছে মহান।
36তুমি প্রশস্ত করেছ আমার পথ,
তাই হয়নি স্খলিত আমার চরণ।
37আমি শত্রুদের পিছনে ধাবিত হয়ে ধরে ফেলি তাদের,
সংহার না করে আমি ফিরি না কখনও।
38আমি চূর্ণ করি তাদের, মাথা তুলে আর দাড়াতে পারে না তারা,
সকলেই হয় আমার পদানত।
39কারণ তুমিই বাহুবল দিয়েছ আমায়, দিয়েছ রণশক্তি,
আমার বিরোধীদের তুমি করেছ আমার অধীন।
40তুমি আমার শত্রুপক্ষকে পলায়নে বাধ্য করে থাক,
যারা আমার বিদ্বেষী তাদের আমি করি নিশ্চহ্ন।
41তারা সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করে ওঠে, কিন্তু তাদের রক্ষা করার কেউ থাকে না।
তারা ডাকে প্রভু পরমেশ্বরকে কিন্তু তিনিও দেন না সাড়া।
42আমি চূর্ণ করি তাদের বাতাসের মুখে উড়ে যাওয়া তূষের মত।
পদানত করি পথের কাদার মত।
43আমার বিরুদ্ধাচারীদের হাত থেকে তুমি আমায় উদ্ধার করেছ নিযুক্ত করেছ আমায় জাতিবৃন্দের শাসকরূপে,
যাদের আমি চিনি না, তাদেরও করেছ আমার পদানত।
44আমার আদেশ শোনা মাত্রই তারা হয় আমার আজ্ঞাবহ,
সমস্ত জাতি নতিস্বীকার করে আমার সম্মুখে।
45তারা হীনবল হয়ে কম্পিত কলেবরে বার হয়ে আসে দুর্গ থেকে,
করে আত্মসমর্পণ আমার কাছে।
46ধন্য সনাতন প্রভু পরমেশ্বর, গিরি আশ্রয় আমার।
মহামহিম আমার পরিত্রাতা।
47তিনি সেই ঈশ্বর, যিনি আমার হয়ে গ্রহণ করেছেন প্রতিশোধ,
সকল জাতিকে দমন করে এনেছেন অধীনে আমার
48তিনিই উদ্ধার করেছেন আমায় শত্রুদের কবল থেকে,
বিজয়ী করেছেন বিরোধীদের উপরে,
দুর্বৃত্তদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন আমায়।
49তাই জাতিবৃন্দের মাঝে আমি গাইব তোমার কীর্তিগাথা
করব তোমার নামের জয়গান।#রোমীয় 15:9
50তোমারই প্রসাদে রাজা হয় ভূষিত বিজয় গৌরবে।
তোমার অভিষিক্ত রাজা দাউদ এবং তাঁর কুলের সঙ্গে
বিচ্ছিন্ন হবে না তাঁর প্রেমের বন্ধন।
Currently Selected:
গীতসংহিতা 18: BENGALCL-BSI
Highlight
Copy
Compare
Share
Want to have your highlights saved across all your devices? Sign up or sign in
Bengali C.L. Bible, পবিএ বাইবেল C.L.
Copyright © 2016 by The Bible Society of India
Used by permission. All rights reserved worldwide.