YouVersion Logo
Search Icon

উপদেশক 9

9
1আমি এই সব গভীরভাবে বিবেচনা করে দেখলাম এবং বুঝলাম যে, ঈশ্বরই নিয়ন্ত্রণ করেন ন্যায়নিষ্ঠ ও জ্ঞানীদের সমস্ত কর্ম, এমন কি তাঁদের ভালবাসা ও ঘৃণাও তাঁরই নিয়ন্ত্রণে। কেউ জানে না, পরমুহূর্তে কি ঘটবে! 2সজ্জন এবং দুর্জন, ভাল ও মন্দ; যে ধর্ম করে বা করে না, যাগযজ্ঞ করে কিম্বা করে না,—সকলেরই এক পরিণতি। পাপীর চেয়ে ধার্মিক যে খুব ভাল থাকবে—তা নয়। তেমনই অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর চেয়ে অঙ্গীকার যে রক্ষা করে, সে যে ভাল থাকবে—তাও নয়। 3জগতে এও এক অদ্ভুত ব্যাপার, ভাল মন্দ সকলেরই একই পরিণতি! মানুষ কুচিন্তায় কুকাজে মত্ত হয়ে জীবন কাটায়, তারপর একদিন চলে যায় মৃতলোকে। 4জীবিত মানুষ মাত্রেই প্রত্যাশা থাকে, ‘মৃত সিংহের চেয়ে জীবন্ত কুক্কুর ভাগ্যবান।’ 5জীবিতেরা জানে যে তাদের মরতে হবে, কিন্তু মৃতেরা জানে না কিছুই, তাদের প্রাপ্য আর কিছু নেই, বিলুপ্ত তাদের স্মৃতিও। 6তাদের প্রেম, ঘৃণা, ঈর্ষা সব অনুভূতি হয়েছে নিঃশেষ। পৃথিবীর কোন কিছুতেই আর অংশগ্রহণ করতে পারবে না তারা।
7-8অতএব তৃপ্তি করে ভোজন করে যাও, মনের আনন্দে কর সুরাপান, কারণ, এই হল ঈশ্বরের অভিপ্রায়। ফুটে উঠুক তোমার মুখে আনন্দ ও তৃপ্তি। 9ঈশ্বরের দেওয়া এই পার্থিব জীবনের রহস্য বুঝতে না পারলেও, তুমি প্রিয়জনকে নিয়ে আনন্দে কাল কাটাও। কারণ জীবনের যত দুঃখকষ্ট ও পরিশ্রমের মাঝে এইটুকুই তোমার প্রাপ্য। 10সর্বশক্তি দিয়ে করে যাও তোমার কর্তব্য, কারণ যেখানে তোমাকে যেতে হবে সেই মৃতলোকে কোনও কাজ নেই, নেই কোনও ভাবনা-চিন্তা, সেখানে কোনও জ্ঞান নেই, নেই কোনও প্রজ্ঞা।
11এ জগতে আমি আরও একটি বিষয় উপলব্ধি করলাম: যারা জোরে দৌড়াতে পারে, তারাই সব সময়ে প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করে না, সব সময়ে সাহসী যোদ্ধারা যুদ্ধে হয় না বিজয়ী, জ্ঞানবানদের জোটে না অন্ন, বুদ্ধিমানেরা ধনী হতে পারে না সব সময়ে, কর্মদক্ষ লোকেরা উন্নীত হয় না উচ্চপদে। সময় ও সুযোগ তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে, মন্দভাগ্য ছায়া ফেলে প্রত্যেকেরই জীবনে। 12মানুষ জানে না তার দুঃসময় কখন ঘনাবে। মাছ যেমন হঠাৎ জালে ধরা পড়ে, হঠাৎ যেমন ফাঁদে পড়ে পাখি, মানুষও তেমনি হঠাৎই নিজের অজান্তে দুঃসময়ের ফাঁদে গিয়ে পড়ে।
জ্ঞান ও মূর্খতা
13এ জগতে প্রজ্ঞা কি ভাবে মর্যাদা পায় তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমি প্রত্যক্ষ করলাম। 14একটি ছোট নগর ছিল, তার লোকসংখ্যাও ছিল কম। মহাপরাক্রমশালী এক রাজা এসে আক্রমণ করলেন সেই নগর। নগর অবরোধ করে তিনি তার প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলার ব্যবস্থা করলেন। 15কিন্তু সেখানে ছিলেন এক দরিদ্র বিচক্ষণ ব্যক্তি যিনি তাঁর বুদ্ধি-কৌশলে রক্ষা করলেন সেই নগর। কিন্তু, কেউ মনেও রাখল না সেই দরিদ্র লোকটির কথা। 16কিন্তু আমি ভাবতাম, বাহুবলের চেয়ে প্রজ্ঞাই শ্রেয়। এখন দেখছি, দরিদ্রের জ্ঞানের মর্যাদা দেয় না কেউ-ই, কান দেয় না কেউ তার কথায়। 17নির্বোধের আসরে কর্তাব্যক্তির চীৎকারের চেয়ে প্রাজ্ঞ ব্যক্তির মৃদুভাষণ শোনা অনেক ভাল। 18অস্ত্রের চেয়ে প্রজ্ঞা কার্যকরী অনেক বেশী, কিন্তু একটি ভুল ধ্বংস করতে পারে অনেক ভাল কাজ।

Highlight

Copy

Compare

Share

None

Want to have your highlights saved across all your devices? Sign up or sign in