YouVersion Logo
Search Icon

ইশাইয়া 28

28
আফরাহীমের দুর্দশা
1হায়, আফরাহীমের মাতালদের তাজের মত শহর, যা নিয়ে তারা অহংকার করে! হায়, আফরাহীমের গৌরবময় সৌন্দর্যের সেই ্নান হওয়া মালা, যা একটা উর্বর উপত্যকার মাথার উপর রয়েছে! আংগুর-রস সেই উপত্যকার লোকদের খেয়ে ফেলেছে। 2দেখ, দীন-দুনিয়ার মালিকের একজন ক্ষমতাবান ও শক্তিশালী লোক আছে। শিলাবৃষ্টি ও ধ্বংসকারী একটা বাতাসের মত, মুষলধারে পড়া একটা বন্যার বৃষ্টির মত সে সজোরে সেই শহরকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দেবে। 3আফরাহীমের মাতালদের সেই অহংকারের তাজ পায়ের তলায় মাড়ানো হবে। 4আফরাহীমের গৌরবময় সৌন্দর্যের সেই ্নান হওয়া মালা যা একটা উর্বর উপত্যকার মাথার উপর রয়েছে, তা প্রথমে পাকা ডুমুরের মত শেষ হয়ে যাবে; কেউ তা দেখলে হাতে নিয়ে গিলে ফেলবে।
5সেই দিন আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীন তাঁর বেঁচে থাকা বান্দাদের জন্য একটা গৌরবময় তাজ এবং একটা সুন্দর মালা হবেন। 6তিনি বিচারকের দিলে ন্যায়বিচারের মনোভাব দেবেন। যারা দরজার কাছ থেকে যুদ্ধ সরিয়ে দেয় তাদের তিনি শক্তি দেবেন।
7কিন্তু আফরাহীমের ইমাম ও নবীরা এখন আংগুর-রস খেয়ে টলে ও মাতলামি করে আর মদ খেয়ে গড়াগড়ি দেয়; তারা টলতে টলতে দর্শন পায় আর সেই অবস্থায় রায় দেয়। 8সব টেবিলগুলো বমিতে ভরা; বমি ছাড়া একটু জায়গাও পরিষ্কার নেই।
9তারা বলে, “সে কাকে শিক্ষা দিচ্ছে? তার বাণী কার কাছে ব্যাখ্যা করছে? যারা দুধ খাওয়া ছেড়েছে, বুকের দুধ থেকে যাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তাদের কাছে কি? 10তা হল, ‘এটা কর, ওটা কর, এই নিয়ম মান, ঐ নিয়ম মান, এখানে আছে, ওখানে আছে।’ ”
11ভাল, তাহলে মাবুদ বিদেশীদের মুখের অদ্ভুত ভাষা দিয়ে এই লোকদের কাছে কথা বলবেন। 12তিনি তাদের বলেছিলেন, “এটাই সেই বিশ্রামের জায়গা, ক্লান্ত লোকেরা এখানে বিশ্রাম করুক। দেখ, এই সেই আরামের জায়গা।” কিন্তু তারা তা শুনল না। 13কাজেই তাদের কাছে মাবুদের কথা হবে, “এটা কর, ওটা কর, এই নিয়ম মান, ঐ নিয়ম মান, এখানে আছে, ওখানে আছে,” যাতে তারা গিয়ে পিছন দিকে পড়ে যায় আর আঘাত পেয়ে ফাঁদে ধরা পড়ে।
14সেইজন্য হে ঠাট্টা-বিদ্রূপকারীরা, তোমরা যারা জেরুজালেমে এই লোকদের শাসন করে থাক, তোমরা মাবুদের কালাম শোন। 15তোমরা বড়াই করে বল, “আমরা মৃত্যুর সংগে, কবরের সংগে একটা চুক্তি করেছি। ধ্বংসের চাবুক যখন জোরে নেমে আসবে তখন তা আমাদের কাছে আসবে না, কারণ আমরা মিথ্যাকে আমাদের আশ্রয়স্থান আর ছলনাকে আমাদের লুকাবার জায়গা করেছি।”
16কাজেই আল্লাহ্‌ মালিক এই কথা বলছেন, “দেখ, আমি যাচাই করে নেওয়া খুব দামী একটা পাথর বেছে নিয়েছি; সেটা সিয়োনের ভিত্তির কোণের পাথর হিসাবে স্থাপন করেছি। যে কেউ তাঁর উপর ঈমান আনে সে সব সময় স্থির থাকবে। 17আমি ন্যায়বিচারকে মাপের দড়ি আর সততাকে ওলনদড়ি করব; শিলাবৃষ্টি তোমাদের আশ্রয়স্থানরূপ মিথ্যাকে ধ্বংস করে দেবে, আর বন্যা তোমাদের লুকাবার জায়গা ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। 18মৃত্যুর সংগে তোমরা যে চুক্তি করেছ তা বাতিল করা হবে; কবরের সংগে তোমাদের যে চুক্তি হয়েছে তা স্থির থাকবে না। ধ্বংসের চাবুক যখন জোরে নেমে আসবে, তখন তা দিয়ে তোমাদের মারা হবে। 19তা যতবার নেমে আসবে ততবার তোমাদের মারা হবে; সকালের পর সকাল, দিনে ও রাতে তা জোরে নেমে আসবে। এই কথা বুঝতে পারলে তোমরা ভীষণ ভয় পাবে।”
20লম্বা হয়ে শোবার জন্য তোমাদের বিছানা খাটো, আর গায়ে জড়াবার জন্য কম্বলও ছোট। 21মাবুদ যুদ্ধ করবেন, যেমন করে তিনি পরাসীম পাহাড়ে করেছিলেন। তিনি উত্তেজিত হবেন, যেমন গিবিয়োন উপত্যকায় হয়েছিলেন। এইভাবে তিনি তাঁর কাজ, তাঁর অদ্ভুত ও অসাধারণ কাজ শেষ করবেন। 22কাজেই এখন তোমাদের ঠাট্টা-বিদ্রূপ থামাও, তা না হলে তোমাদের বাঁধন আরও শক্ত হবে; কারণ দীন-দুনিয়ার মালিক আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীনের মুখে আমি গোটা দেশের জন্য ঠিক করা ধ্বংসের কথা শুনেছি।
23শোন, আমার কথায় কান দাও; আমি যা বলি তা মন দিয়ে শোন। 24চাষী বীজ বুনবার জন্য কি অনবরত চাষ করে? সে কি সব সময় ঢেলা ভাংগে আর জমিতে মই দেয়? 25মাটির উপরটা সমান করলে পর সে কি কালোজিরা এবং জিরা বোনে না? সে কি সারি সারি করে গম, জায়গামত যব আর ক্ষেতের সীমানায় জনার লাগায় না? 26তার আল্লাহ্‌ তাকে নির্দেশ দেন এবং তাকে ঠিক পথ শিক্ষা দেন। 27কালোজিরা ভারী যন্ত্র দিয়ে মাড়াই করা হয় না, কিংবা জিরার উপর দিয়ে গাড়ির চাকা গড়ানো হয় না, বরং লাঠি দিয়ে কালোজিরা ও জিরা মাড়াই করা হয়। 28অনেক দিন ধরে কেউ গম মাড়াই করতে থাকে না, তাতে তা নষ্ট হয়ে যায়; মাড়াই করবার সময় সে তার উপর দিয়ে এমনভাবে গাড়ির চাকা ও ঘোড়া চালায় যাতে তা নষ্ট না হয়। 29এই সব জ্ঞান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীনের কাছ থেকে আসে। তাঁর পরামর্শ আশ্চর্য ও তাঁর জ্ঞান চমৎকার।

Currently Selected:

ইশাইয়া 28: MBCL

Highlight

Share

Compare

Copy

None

Want to have your highlights saved across all your devices? Sign up or sign in