২ রাজাবলি 9
9
ইস্রায়েলের রাজা যেহূ
1ইলীশায় শিষ্য-নবীদের মধ্য থেকে একজনকে ডেকে বললেন, “তোমার কাপড় তোমার কোমর-বাঁধনিতে গুঁজে নাও এবং এই তেলের শিশিটা নিয়ে তুমি রামোৎ-গিলিয়দে যাও। 2সেখানে গিয়ে নিম্শির নাতি, অর্থাৎ যিহোশাফটের ছেলে যেহূর খোঁজ কর। তার কাছে গিয়ে তাকে তার সংগীদের কাছ থেকে সরিয়ে একটা ভিতরের কামরায় নিয়ে যাবে। 3তারপর সেই শিশিটা থেকে তার মাথায় তেল ঢেলে দিয়ে বলবে যে, সদাপ্রভু বলছেন, ‘ইস্রায়েলের রাজা হিসাবে আমি তোমাকে অভিষেক করলাম।’ তারপর দরজা খুলে দৌড় দেবে, দেরি করবে না।”
4এতে সেই যুবক নবী রামোৎ-গিলিয়দে গেলেন। 5সেখানে পৌঁছে তিনি দেখলেন সেনাপতিরা এক জায়গায় বসে আছেন। তিনি বললেন, “হে সেনাপতি, আপনার জন্য একটা খবর নিয়ে এসেছি।”
যেহূ জিজ্ঞাসা করলেন, “আমাদের মধ্যে সেই খবর কার জন্য?”
তিনি বললেন, “সেনাপতি, আপনারই জন্য।”
6এতে যেহূ উঠে ঘরের মধ্যে গেলেন। তখন সেই নবী যেহূর মাথায় সেই তেল ঢেলে দিয়ে বললেন, “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু এই কথা বলছেন, ‘সদাপ্রভুর লোকদের উপরে, অর্থাৎ ইস্রায়েলের উপরে রাজা হিসাবে আমি তোমাকে অভিষেক করলাম। 7তোমার মনিব আহাবের বংশকে তুমি ধ্বংস করবে। ঈষেবল আমার দাসদের, অর্থাৎ নবীদের এবং সদাপ্রভুর অন্য সব দাসদের যে রক্তপাত করেছে তার প্রতিশোধ আমি নেব। 8আহাবের বংশের সবাই ধ্বংস হবে। দাস হোক বা স্বাধীন হোক, আহাবের বংশের প্রত্যেকটি পুরুষকে আমি মেরে ফেলব। 9আমি তার বংশকে করব নবাটের ছেলে যারবিয়ামের বংশের মত ও অহিয়ের ছেলে বাশার বংশের মত। 10কুকুরেরা ঈষেবলকে যিষ্রিয়েল এলাকায় খেয়ে ফেলবে, তাকে কেউ কবর দেবে না।’ ” এই কথা বলে সেই নবী দরজা খুলে দৌড়ে পালালেন।
11যেহূ বেরিয়ে যখন তাঁর সংগী সেনাপতিদের কাছে গেলেন তখন তাঁদের মধ্যে একজন তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “সব কিছু ভাল তো? ঐ পাগলটা তোমার কাছে কেন এসেছিল?”
উত্তরে যেহূ বললেন, “তোমরা তো লোকটিকে চেন এবং সে কি ধরনের কথা বলে তা-ও তোমাদের জানা আছে।”
12তাঁরা বললেন, “এই কথা ঠিক নয়, আমাদের খুলে বল।”
তখন যেহূ বললেন, “সে আমাকে বলল যে, সদাপ্রভু বলছেন, ‘ইস্রায়েলের রাজা হিসাবে আমি তোমাকে অভিষেক করছি।’ ”
13তখন সেই সেনাপতিরা তাড়াতাড়ি করে তাঁদের গায়ের কাপড় নিয়ে সিঁড়ির উপর যেহূর পায়ের নীচে পেতে দিলেন। তারপর শিংগা বাজিয়ে তাঁরা চিৎকার করে বললেন, “যেহূই রাজা।”
যেহূর হাতে যোরাম ও অহসিয়ের মৃত্যু
14তারপর যিহোশাফটের ছেলে, অর্থাৎ নিম্শির নাতি যেহূ যোরামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলেন। সেই সময় যোরাম ও সমস্ত ইস্রায়েলীয়েরা রামোৎ-গিলিয়দ রক্ষা করবার জন্য অরামের রাজা হসায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন। 15কিন্তু অরামের রাজা হসায়েলের সংগে যুদ্ধ করবার সময় অরামীয়েরা যোরামের গায়ে যে আঘাত করেছিল তা থেকে সুস্থ হয়ে উঠবার জন্য তিনি যিষ্রিয়েলে ফিরে গিয়েছিলেন। যেহূ তাঁর সংগী সেনাপতিদের বললেন, “আপনারা যদি আমার পক্ষে থাকেন তবে দেখবেন খবরটা যিষ্রিয়েলে দেবার জন্য যেন কোন লোক শহর থেকে চুপি চুপি বেরিয়ে না যায়।” 16তারপর যেহূ তাঁর রথে চড়ে যিষ্রিয়েলে গেলেন, কারণ যোরাম সেখানে বিছানায় শুয়ে ছিলেন এবং যিহূদার রাজা অহসিয় সেখানে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন।
17যেহূর সৈন্যদলকে আসতে দেখে যিষ্রিয়েলের দুর্গের উপর দাঁড়ানো পাহারাদার চিৎকার করে বলল, “আমি একদল সৈন্য আসতে দেখছি।”
তখন যোরাম হুকুম দিলেন, “একজন ঘোড়সওয়ারকে তাদের কাছে পাঠিয়ে দাও। সে তাদের জিজ্ঞাসা করুক, ‘আপনাদের আসবার উদ্দেশ্য ভাল তো?’ ”
18সেই ঘোড়সওয়ারটি যেহূর সংগে দেখা করতে চলে গেল এবং তাঁকে বলল, “রাজা বলছেন, ‘আপনাদের আসবার উদ্দেশ্য ভাল তো?’ ”
উত্তরে যেহূ বললেন, “আমার আসবার উদ্দেশ্য দিয়ে তোমার দরকার কি? তুমি আমার পিছনে পিছনে এস।”
সেই পাহারাদার তখন খবর দিল, “সংবাদ নিয়ে লোকটি তাদের কাছে পৌঁছেছে, কিন্তু সে তো ফিরে আসছে না।”
19তখন রাজা দ্বিতীয় আর একজন ঘোড়সওয়ারকে পাঠালেন। সে সেই সৈন্যদলের কাছে গিয়ে বলল, “রাজা বলছেন, ‘আপনাদের আসবার উদ্দেশ্য ভাল তো?’ ”
উত্তরে যেহূ বললেন, “আমার আসবার উদ্দেশ্য দিয়ে তোমার দরকার কি? তুমি আমার পিছনে পিছনে এস।”
20সেই পাহারদারটি খবর দিল, “সে তাদের কাছে গিয়ে পৌঁছেছে, কিন্তু সে-ও তো ফিরে আসছে না। রথ চালানো দেখে মনে হচ্ছে নিম্শির নাতি যেহূ রথ চালাচ্ছে। সে পাগলের মতই রথ চালাচ্ছে।”
21তখন যোরাম হুকুম দিলেন, “আমার রথে ঘোড়া লাগাও।” ঘোড়া লাগানো হলে পর ইস্রায়েলের রাজা যোরাম ও যিহূদার রাজা অহসিয় নিজের নিজের রথে চড়ে যেহূর সংগে দেখা করবার জন্য বের হলেন। যিষ্রিয়েলীয় নাবোতের জমিতে যেহূর সংগে তাঁদের দেখা হল। 22যোরাম যেহূকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, “যেহূ, তোমার আসবার উদ্দেশ্য ভাল তো?”
উত্তরে যেহূ বললেন, “আপনার মা ঈষেবলের প্রতিমাপূজা ও যাদুবিদ্যার কাজ যখন এত বেশী করে চলছে তখন আমার আসবার উদ্দেশ্য কেমন করে ভাল হতে পারে?”
23এই কথা শুনে যোরাম ঘুরে পালাবার সময় অহসিয়কে ডেকে বললেন, “অহসিয়, এ বিশ্বাসঘাতকতা।”
24তখন যেহূ সমস্ত শক্তি দিয়ে নিজের ধনুকে টান দিয়ে যোরামের দুই কাঁধের মাঝখানে তীর ছুঁড়লেন। তীর গিয়ে তাঁর হৃদপিণ্ডে বিঁধল এবং তিনি রথের মধ্যে পড়ে গেলেন। 25তখন যেহূ তাঁর সংগের সেনাপতি বিদ্করকে বললেন, “ওকে তুলে নিয়ে যিষ্রিয়েলীয় নাবোতের জমিতে ফেলে দাও। মনে করে দেখ, আমি আর তুমি তাঁর বাবা আহাবের পিছনে রথে করে যখন যাচ্ছিলাম তখন সদাপ্রভু আহাবের বিরুদ্ধে এই কথা বলেছিলেন, 26‘আমি সদাপ্রভু বলছি, গতকাল আমি নাবোত ও তার ছেলেদের রক্ত দেখেছি, আর এই জমির উপরেই তোমার কাছ থেকে নিশ্চয়ই আমি তার প্রতিশোধ নেব।’ তাহলে তুমি এখন সদাপ্রভুর কথা অনুসারে ওকে তুলে নিয়ে ঐ জমিতে ফেলে দাও।”
27যা ঘটেছে তা দেখে যিহূদার রাজা অহসিয় বৈৎ-হাগ্গানের পথ ধরে পালিয়ে গেলেন। যেহূ তাঁর পিছনে তাড়া করে যেতে যেতে চিৎকার করে বললেন, “ওকেও মেরে ফেল।” তখন লোকেরা যিব্লিয়মের কাছে গূর নামে উঠবার পথে অহসিয়কে তাঁর রথের মধ্যে আঘাত করল, কিন্তু তিনি মগিদ্দোতে পালিয়ে গেলেন আর সেখানেই মারা গেলেন। 28তাঁর কর্মচারীরা তাঁকে রথে করে যিরূশালেমে নিয়ে গেল এবং দায়ূদ-শহরে তাঁর পূর্বপুরুষদের সংগে তাঁর জন্য ঠিক করা কবরে তাঁকে কবর দিল। 29আহাবের ছেলে যোরামের রাজত্বের এগারো বছরের সময় অহসিয় যিহূদার রাজা হয়েছিলেন।
ঈষেবলের মৃত্যু
30এর পর যেহূ যিষ্রিয়েলে গেলেন। ঈষেবল সেই কথা শুনে চোখে কাজল দিয়ে ও সুন্দর করে চুল বেঁধে জানলা দিয়ে চেয়ে দেখলেন। 31যেহূ যখন ফটক দিয়ে ঢুকছিলেন তখন ঈষেবল তাঁকে বললেন, “ওহে সিম্রির মত খুনী, নিজের মনিবের হত্যাকারী! তোমার আসবার উদ্দেশ্য কি ভাল?”
32যেহূ তখন উপরে জানলার দিকে চেয়ে বললেন, “আমার পক্ষে কে আছে? কে আছে?” তখন দুই-তিনজন খোজা উপর থেকে তাঁর দিকে চেয়ে দেখল। 33যেহূ বললেন, “ওকে নীচে ফেলে দাও।” তখন তারা ঈষেবলকে নীচে ফেলে দিল আর যেহূর রথের ঘোড়াগুলো তাঁকে পায়ে মাড়িয়ে গেল। তাতে তাঁর রক্ত ছিট্কে গিয়ে দেয়ালে আর ঘোড়ার গায়ে লাগল।
34তারপর যেহূ ভিতরে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করলেন। পরে তিনি বললেন, “তোমরা ঐ অভিশপ্ত স্ত্রীলোকটিকে কবর দেবার ব্যবস্থা কর, কারণ সে একজন রাজকন্যা ছিল।” 35কিন্তু লোকেরা যখন তাঁকে কবর দেবার জন্য বাইরে গেল তখন তাঁর মাথার খুলি, হাত ও পা ছাড়া আর কিছুই পেল না। 36এই কথা তারা ফিরে গিয়ে যেহূকে জানালে পর তিনি বললেন, “সদাপ্রভু নিজের দাস তিশ্বীয় এলিয়ের মধ্য দিয়ে ঠিক এই কথাই বলেছিলেন, ‘যিষ্রিয়েলের জমিতে কুকুরেরা ঈষেবলের মাংস খাবে। 37সেই জমির মাটিতে ঈষেবলের দেহ এমন গোবর-সারের মত পড়ে থাকবে যে, কেউ চিনতে পারবে না ওটা ঈষেবলের দেহ।’ ”
اکنون انتخاب شده:
২ রাজাবলি 9: SBCL
هایلایت
کپی
مقایسه
به اشتراک گذاشتن
می خواهید نکات برجسته خود را در همه دستگاه های خود ذخیره کنید؟ برای ورودثبت نام کنید یا اگر ثبت نام کرده اید وارد شوید
© The Bangladesh Bible Society, 2000
২ রাজাবলি 9
9
ইস্রায়েলের রাজা যেহূ
1ইলীশায় শিষ্য-নবীদের মধ্য থেকে একজনকে ডেকে বললেন, “তোমার কাপড় তোমার কোমর-বাঁধনিতে গুঁজে নাও এবং এই তেলের শিশিটা নিয়ে তুমি রামোৎ-গিলিয়দে যাও। 2সেখানে গিয়ে নিম্শির নাতি, অর্থাৎ যিহোশাফটের ছেলে যেহূর খোঁজ কর। তার কাছে গিয়ে তাকে তার সংগীদের কাছ থেকে সরিয়ে একটা ভিতরের কামরায় নিয়ে যাবে। 3তারপর সেই শিশিটা থেকে তার মাথায় তেল ঢেলে দিয়ে বলবে যে, সদাপ্রভু বলছেন, ‘ইস্রায়েলের রাজা হিসাবে আমি তোমাকে অভিষেক করলাম।’ তারপর দরজা খুলে দৌড় দেবে, দেরি করবে না।”
4এতে সেই যুবক নবী রামোৎ-গিলিয়দে গেলেন। 5সেখানে পৌঁছে তিনি দেখলেন সেনাপতিরা এক জায়গায় বসে আছেন। তিনি বললেন, “হে সেনাপতি, আপনার জন্য একটা খবর নিয়ে এসেছি।”
যেহূ জিজ্ঞাসা করলেন, “আমাদের মধ্যে সেই খবর কার জন্য?”
তিনি বললেন, “সেনাপতি, আপনারই জন্য।”
6এতে যেহূ উঠে ঘরের মধ্যে গেলেন। তখন সেই নবী যেহূর মাথায় সেই তেল ঢেলে দিয়ে বললেন, “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু এই কথা বলছেন, ‘সদাপ্রভুর লোকদের উপরে, অর্থাৎ ইস্রায়েলের উপরে রাজা হিসাবে আমি তোমাকে অভিষেক করলাম। 7তোমার মনিব আহাবের বংশকে তুমি ধ্বংস করবে। ঈষেবল আমার দাসদের, অর্থাৎ নবীদের এবং সদাপ্রভুর অন্য সব দাসদের যে রক্তপাত করেছে তার প্রতিশোধ আমি নেব। 8আহাবের বংশের সবাই ধ্বংস হবে। দাস হোক বা স্বাধীন হোক, আহাবের বংশের প্রত্যেকটি পুরুষকে আমি মেরে ফেলব। 9আমি তার বংশকে করব নবাটের ছেলে যারবিয়ামের বংশের মত ও অহিয়ের ছেলে বাশার বংশের মত। 10কুকুরেরা ঈষেবলকে যিষ্রিয়েল এলাকায় খেয়ে ফেলবে, তাকে কেউ কবর দেবে না।’ ” এই কথা বলে সেই নবী দরজা খুলে দৌড়ে পালালেন।
11যেহূ বেরিয়ে যখন তাঁর সংগী সেনাপতিদের কাছে গেলেন তখন তাঁদের মধ্যে একজন তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “সব কিছু ভাল তো? ঐ পাগলটা তোমার কাছে কেন এসেছিল?”
উত্তরে যেহূ বললেন, “তোমরা তো লোকটিকে চেন এবং সে কি ধরনের কথা বলে তা-ও তোমাদের জানা আছে।”
12তাঁরা বললেন, “এই কথা ঠিক নয়, আমাদের খুলে বল।”
তখন যেহূ বললেন, “সে আমাকে বলল যে, সদাপ্রভু বলছেন, ‘ইস্রায়েলের রাজা হিসাবে আমি তোমাকে অভিষেক করছি।’ ”
13তখন সেই সেনাপতিরা তাড়াতাড়ি করে তাঁদের গায়ের কাপড় নিয়ে সিঁড়ির উপর যেহূর পায়ের নীচে পেতে দিলেন। তারপর শিংগা বাজিয়ে তাঁরা চিৎকার করে বললেন, “যেহূই রাজা।”
যেহূর হাতে যোরাম ও অহসিয়ের মৃত্যু
14তারপর যিহোশাফটের ছেলে, অর্থাৎ নিম্শির নাতি যেহূ যোরামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলেন। সেই সময় যোরাম ও সমস্ত ইস্রায়েলীয়েরা রামোৎ-গিলিয়দ রক্ষা করবার জন্য অরামের রাজা হসায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন। 15কিন্তু অরামের রাজা হসায়েলের সংগে যুদ্ধ করবার সময় অরামীয়েরা যোরামের গায়ে যে আঘাত করেছিল তা থেকে সুস্থ হয়ে উঠবার জন্য তিনি যিষ্রিয়েলে ফিরে গিয়েছিলেন। যেহূ তাঁর সংগী সেনাপতিদের বললেন, “আপনারা যদি আমার পক্ষে থাকেন তবে দেখবেন খবরটা যিষ্রিয়েলে দেবার জন্য যেন কোন লোক শহর থেকে চুপি চুপি বেরিয়ে না যায়।” 16তারপর যেহূ তাঁর রথে চড়ে যিষ্রিয়েলে গেলেন, কারণ যোরাম সেখানে বিছানায় শুয়ে ছিলেন এবং যিহূদার রাজা অহসিয় সেখানে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন।
17যেহূর সৈন্যদলকে আসতে দেখে যিষ্রিয়েলের দুর্গের উপর দাঁড়ানো পাহারাদার চিৎকার করে বলল, “আমি একদল সৈন্য আসতে দেখছি।”
তখন যোরাম হুকুম দিলেন, “একজন ঘোড়সওয়ারকে তাদের কাছে পাঠিয়ে দাও। সে তাদের জিজ্ঞাসা করুক, ‘আপনাদের আসবার উদ্দেশ্য ভাল তো?’ ”
18সেই ঘোড়সওয়ারটি যেহূর সংগে দেখা করতে চলে গেল এবং তাঁকে বলল, “রাজা বলছেন, ‘আপনাদের আসবার উদ্দেশ্য ভাল তো?’ ”
উত্তরে যেহূ বললেন, “আমার আসবার উদ্দেশ্য দিয়ে তোমার দরকার কি? তুমি আমার পিছনে পিছনে এস।”
সেই পাহারাদার তখন খবর দিল, “সংবাদ নিয়ে লোকটি তাদের কাছে পৌঁছেছে, কিন্তু সে তো ফিরে আসছে না।”
19তখন রাজা দ্বিতীয় আর একজন ঘোড়সওয়ারকে পাঠালেন। সে সেই সৈন্যদলের কাছে গিয়ে বলল, “রাজা বলছেন, ‘আপনাদের আসবার উদ্দেশ্য ভাল তো?’ ”
উত্তরে যেহূ বললেন, “আমার আসবার উদ্দেশ্য দিয়ে তোমার দরকার কি? তুমি আমার পিছনে পিছনে এস।”
20সেই পাহারদারটি খবর দিল, “সে তাদের কাছে গিয়ে পৌঁছেছে, কিন্তু সে-ও তো ফিরে আসছে না। রথ চালানো দেখে মনে হচ্ছে নিম্শির নাতি যেহূ রথ চালাচ্ছে। সে পাগলের মতই রথ চালাচ্ছে।”
21তখন যোরাম হুকুম দিলেন, “আমার রথে ঘোড়া লাগাও।” ঘোড়া লাগানো হলে পর ইস্রায়েলের রাজা যোরাম ও যিহূদার রাজা অহসিয় নিজের নিজের রথে চড়ে যেহূর সংগে দেখা করবার জন্য বের হলেন। যিষ্রিয়েলীয় নাবোতের জমিতে যেহূর সংগে তাঁদের দেখা হল। 22যোরাম যেহূকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, “যেহূ, তোমার আসবার উদ্দেশ্য ভাল তো?”
উত্তরে যেহূ বললেন, “আপনার মা ঈষেবলের প্রতিমাপূজা ও যাদুবিদ্যার কাজ যখন এত বেশী করে চলছে তখন আমার আসবার উদ্দেশ্য কেমন করে ভাল হতে পারে?”
23এই কথা শুনে যোরাম ঘুরে পালাবার সময় অহসিয়কে ডেকে বললেন, “অহসিয়, এ বিশ্বাসঘাতকতা।”
24তখন যেহূ সমস্ত শক্তি দিয়ে নিজের ধনুকে টান দিয়ে যোরামের দুই কাঁধের মাঝখানে তীর ছুঁড়লেন। তীর গিয়ে তাঁর হৃদপিণ্ডে বিঁধল এবং তিনি রথের মধ্যে পড়ে গেলেন। 25তখন যেহূ তাঁর সংগের সেনাপতি বিদ্করকে বললেন, “ওকে তুলে নিয়ে যিষ্রিয়েলীয় নাবোতের জমিতে ফেলে দাও। মনে করে দেখ, আমি আর তুমি তাঁর বাবা আহাবের পিছনে রথে করে যখন যাচ্ছিলাম তখন সদাপ্রভু আহাবের বিরুদ্ধে এই কথা বলেছিলেন, 26‘আমি সদাপ্রভু বলছি, গতকাল আমি নাবোত ও তার ছেলেদের রক্ত দেখেছি, আর এই জমির উপরেই তোমার কাছ থেকে নিশ্চয়ই আমি তার প্রতিশোধ নেব।’ তাহলে তুমি এখন সদাপ্রভুর কথা অনুসারে ওকে তুলে নিয়ে ঐ জমিতে ফেলে দাও।”
27যা ঘটেছে তা দেখে যিহূদার রাজা অহসিয় বৈৎ-হাগ্গানের পথ ধরে পালিয়ে গেলেন। যেহূ তাঁর পিছনে তাড়া করে যেতে যেতে চিৎকার করে বললেন, “ওকেও মেরে ফেল।” তখন লোকেরা যিব্লিয়মের কাছে গূর নামে উঠবার পথে অহসিয়কে তাঁর রথের মধ্যে আঘাত করল, কিন্তু তিনি মগিদ্দোতে পালিয়ে গেলেন আর সেখানেই মারা গেলেন। 28তাঁর কর্মচারীরা তাঁকে রথে করে যিরূশালেমে নিয়ে গেল এবং দায়ূদ-শহরে তাঁর পূর্বপুরুষদের সংগে তাঁর জন্য ঠিক করা কবরে তাঁকে কবর দিল। 29আহাবের ছেলে যোরামের রাজত্বের এগারো বছরের সময় অহসিয় যিহূদার রাজা হয়েছিলেন।
ঈষেবলের মৃত্যু
30এর পর যেহূ যিষ্রিয়েলে গেলেন। ঈষেবল সেই কথা শুনে চোখে কাজল দিয়ে ও সুন্দর করে চুল বেঁধে জানলা দিয়ে চেয়ে দেখলেন। 31যেহূ যখন ফটক দিয়ে ঢুকছিলেন তখন ঈষেবল তাঁকে বললেন, “ওহে সিম্রির মত খুনী, নিজের মনিবের হত্যাকারী! তোমার আসবার উদ্দেশ্য কি ভাল?”
32যেহূ তখন উপরে জানলার দিকে চেয়ে বললেন, “আমার পক্ষে কে আছে? কে আছে?” তখন দুই-তিনজন খোজা উপর থেকে তাঁর দিকে চেয়ে দেখল। 33যেহূ বললেন, “ওকে নীচে ফেলে দাও।” তখন তারা ঈষেবলকে নীচে ফেলে দিল আর যেহূর রথের ঘোড়াগুলো তাঁকে পায়ে মাড়িয়ে গেল। তাতে তাঁর রক্ত ছিট্কে গিয়ে দেয়ালে আর ঘোড়ার গায়ে লাগল।
34তারপর যেহূ ভিতরে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করলেন। পরে তিনি বললেন, “তোমরা ঐ অভিশপ্ত স্ত্রীলোকটিকে কবর দেবার ব্যবস্থা কর, কারণ সে একজন রাজকন্যা ছিল।” 35কিন্তু লোকেরা যখন তাঁকে কবর দেবার জন্য বাইরে গেল তখন তাঁর মাথার খুলি, হাত ও পা ছাড়া আর কিছুই পেল না। 36এই কথা তারা ফিরে গিয়ে যেহূকে জানালে পর তিনি বললেন, “সদাপ্রভু নিজের দাস তিশ্বীয় এলিয়ের মধ্য দিয়ে ঠিক এই কথাই বলেছিলেন, ‘যিষ্রিয়েলের জমিতে কুকুরেরা ঈষেবলের মাংস খাবে। 37সেই জমির মাটিতে ঈষেবলের দেহ এমন গোবর-সারের মত পড়ে থাকবে যে, কেউ চিনতে পারবে না ওটা ঈষেবলের দেহ।’ ”
اکنون انتخاب شده:
:
هایلایت
کپی
مقایسه
به اشتراک گذاشتن
می خواهید نکات برجسته خود را در همه دستگاه های خود ذخیره کنید؟ برای ورودثبت نام کنید یا اگر ثبت نام کرده اید وارد شوید
© The Bangladesh Bible Society, 2000