২ রাজাবলি 10
10
আহাবের বংশের লোকদের মৃত্যু
1শমরিয়াতে আহাবের সত্তরজন বংশধর ছিল। যেহূ চিঠি লিখে শমরিয়াতে যিষ্রিয়েলের শাসনকর্তাদের কাছে, বৃদ্ধ নেতাদের কাছে এবং আহাবের বংশধরদের রক্ষকদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি লিখেছিলেন, 2-3“আপনাদের মনিবের বংশধরেরা আপনাদের কাছে আছে এবং রথ, ঘোড়া, দেয়াল-ঘেরা শহর আর অস্ত্রশস্ত্রও আছে। কাজেই এই চিঠি পাওয়ামাত্র আপনাদের মনিবের সব চেয়ে ভাল ও যোগ্য বংশধরকে বেছে নিয়ে আহাবের সিংহাসনে বসান, তারপর মনিবের বংশের জন্য যুদ্ধ করুন।”
4কিন্তু তাঁরা ভীষণ ভয় পেয়ে বললেন, “দু’জন রাজা যখন যেহূর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারলেন না তখন আমরা কি করে পারব?”
5কাজেই রাজবাড়ীর পরিচালক, শহরের শাসনকর্তা, বৃদ্ধ নেতারা এবং আহাবের বংশধরদের রক্ষকেরা যেহূকে এই কথা বলে পাঠালেন, “আমরা আপনার দাস। আপনি যা বলবেন আমরা তা-ই করব। আমরা কাউকেই রাজা করব না; আপনি যা ভাল মনে করেন তা-ই করুন।”
6তখন যেহূ তাদের কাছে এই বলে দ্বিতীয় চিঠি লিখলেন, “আপনারা যদি আমার পক্ষে থাকেন এবং আমার আদেশ পালন করতে চান তবে আপনাদের মনিবের বংশধরদের মাথাগুলো কেটে নিয়ে আগামী কাল এই সময়ে যিষ্রিয়েলে আমার কাছে চলে আসুন।”
আহাবের সেই সত্তরজন বংশধর তখন শহরের প্রধান লোকদের কাছে ছিল। তাঁরা তাদের দেখাশোনা করতেন। 7যেহূর চিঠিটা পৌঁছাবার পর সেই লোকেরা সেই সত্তরজনের সবাইকে ধরে মেরে ফেললেন। তারপর টুকরিতে করে মাথাগুলো যিষ্রিয়েলে যেহূর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। 8তখন একজন লোক এসে যেহূকে বলল, “ওরা তাদের মাথা নিয়ে এসেছে।”
তখন যেহূ হুকুম দিলেন, “ওগুলো দু’টা গাদা করে শহর-ফটকে ঢুকবার পথে সকাল পর্যন্ত রেখে দাও।”
9পরের দিন সকালে যেহূ বাইরে গেলেন। তিনি সমস্ত লোকদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, “আপনাদের কোন দোষ নেই। আমিই আমার মনিবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে মেরে ফেলেছি, কিন্তু এদের সবাইকে মারল কে? 10আপনারা জেনে রাখুন, আহাবের বংশের বিরুদ্ধে সদাপ্রভুর বলা একটা কথাও মিথ্যা হবে না। সদাপ্রভু তাঁর দাস এলিয়ের মধ্য দিয়ে যা করবার কথা বলেছিলেন তা করেছেন।” 11পরে যেহূ যিষ্রিয়েলে আহাবের বংশের বাকী লোকদের, তাঁর সমস্ত গণ্যমান্য লোকদের, তাঁর বিশেষ বন্ধুদের এবং তাঁর পুরোহিতদের মেরে ফেললেন। তাঁদের আর কেউ বেঁচে রইলেন না।
12-13এর পর যেহূ বের হয়ে শমরিয়ার দিকে চললেন। পথে রাখালদের গ্রাম বৈৎ-একদে যিহূদার রাজা অহসিয়ের বংশের কয়েকজন লোকের সংগে তাঁর দেখা হল। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনারা কারা?” তারা বলল, “আমরা অহসিয়ের বংশের লোক। আমরা রাণী ঈষেবলের সন্তানদের ও রাজপরিবারের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি।”
14তখন যেহূ হুকুম দিলেন, “ওদের জীবন্ত ধর।” লোকেরা তাদের জীবন্তই ধরল এবং সেখানকার কূয়ার কাছে তাদের মেরে ফেলল। তারা সংখ্যায় ছিল বিয়াল্লিশজন। তাদের মধ্যে একজনকেও তিনি বাঁচিয়ে রাখলেন না।
15সেখান থেকে চলে যাবার পর রেখবের ছেলে যিহোনাদবের সংগে যেহূর দেখা হল। তিনি যেহূর সংগে দেখা করতে আসছিলেন। যেহূ তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বললেন, “আমি যেমন আপনার পক্ষে আছি তেমনি আপনিও কি আমার পক্ষে আছেন?”
উত্তরে যিহোনাদব বললেন, “হ্যাঁ, আছি।”
যেহূ বললেন, “যদি তা-ই হয় তবে আপনার হাত বাড়িয়ে দিন।” যিহোনাদব তা-ই করলেন আর যেহূ তাঁকে রথে তুলে নিলেন। 16তারপর যেহূ বললেন, “আমার সংগে আসুন এবং সদাপ্রভুর জন্য আমার আগ্রহ কতখানি তা দেখুন।” এই বলে তিনি তাঁকে তাঁর রথে করে নিয়ে চললেন।
17যেহূ শমরিয়াতে এসে আহাবের বংশের বাদবাকী সব লোকদের মেরে ফেললেন। সদাপ্রভু এলিয়কে যেমন বলেছিলেন সেই অনুসারেই যেহূ তাদের ধ্বংস করলেন।
বাল দেবতার পুরোহিতদের মৃত্যু
18তারপর যেহূ সমস্ত লোকদের জড়ো করে তাদের বললেন, “আহাব বাল দেবতার পূজা সামান্যই করেছেন, কিন্তু যেহূ তাঁর পূজা করবে অনেক বেশী। 19এখন বাল দেবতার সব নবী, পূজাকারী ও পুরোহিতদের আপনারা ডেকে আনুন। দেখবেন যেন কেউ বাদ না পড়ে, কারণ বাল দেবতার উদ্দেশে আমি একটা মস্ত বড় পশুবলির ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। এতে কেউ যদি না আসে তবে তাকে মেরে ফেলা হবে।” কিন্তু আসলে যেহূ বাল দেবতার পূজাকারীদের ধ্বংস করবার জন্যই এই ছলনা করছিলেন।
20যেহূ বললেন, “বাল দেবতার উদ্দেশে একটা সভা ডাকা হোক।” কাজেই সেই কথা লোকেরা ঘোষণা করে দিল। 21যেহূ তখন ইস্রায়েলের সব জায়গায় খবর পাঠালেন। তাতে বাল দেবতার সমস্ত পূজাকারীরা এসে হাজির হল, কেউই অনুপস্থিত রইল না। তারা বাল দেবতার মন্দিরে ঢুকলে পর এমন ভিড় হল যে, মন্দিরের এপাশ থেকে ওপাশ পর্যন্ত লোকে ভরে গেল। 22তখন যেহূ পোশাক-রক্ষককে বললেন, “বাল দেবতার পূজাকারী সকলের জন্য পোশাক নিয়ে আসুন।” তাতে সে তাদের জন্য পোশাক বের করে আনল।
23তারপর যেহূ ও রেখবের ছেলে যিহোনাদব বাল দেবতার মন্দিরে ঢুকলেন। যেহূ বাল দেবতার পূজাকারীদের বললেন, “আপনারা ভাল করে খুঁজে দেখুন যাতে সদাপ্রভুর দাসদের মধ্যে কেউ এখানে আপনাদের মধ্যে না থাকে, শুধু বাল দেবতার পূজাকারীরাই থাকবে।”
24তখন তাঁরা পশুবলি ও পোড়ানো-উৎসর্গের অনুষ্ঠান করতে গেলেন। যেহূ আশিজন লোককে এই বলে সাবধান করে দিয়ে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন, “আমি তোমাদের হাতে যাদের ভার দিচ্ছি তাদের একজনকেও যদি কেউ পালিয়ে যেতে দেয় তবে পালিয়ে যাওয়া লোকের প্রাণের বদলে তার প্রাণ যাবে।”
25যেহূ পোড়ানো-উৎসর্গের অনুষ্ঠান শেষ করবার সংগে সংগে পাহারাদার ও সেনাপতিদের হুকুম দিলেন, “তোমরা ভিতরে ঢুকে ওদের মেরে ফেল; একজনও যেন পালিয়ে যেতে না পারে।” তখন তারা তলোয়ার দিয়ে তাদের কেটে ফেলল। পাহারাদার ও সেনাপতিরা মৃতদেহগুলো মন্দিরের বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ভিতরের ঘরে গেল। 26বাল দেবতার মন্দির থেকে পূজার পাথরগুলো তারা বের করে এনে পুড়িয়ে দিল। 27তারপর তারা বাল দেবতার পূজার পাথরটা চুরমার করে দিল এবং মন্দিরটা ভেংগে ফেলল। লোকেরা তখন থেকে আজ পর্যন্ত সেটাকে পায়খানা-ঘর হিসাবে ব্যবহার করে আসছে।
28এইভাবে যেহূ ইস্রায়েলের মধ্যে বাল দেবতার পূজা বন্ধ করে দিলেন। 29কিন্তু নবাটের ছেলে যারবিয়াম ইস্রায়েলকে দিয়ে যে সব পাপ করিয়েছিলেন তা থেকে তিনি সরে আসেন নি। সেটা হল বৈথেল ও দানে সোনার বাছুরের পূজা করা।
30সদাপ্রভু যেহূকে বললেন, “আমার চোখে যা ন্যায্য তা করে তুমি ভাল করেছ এবং আহাবের বংশের প্রতি আমি যা করতে চেয়েছি তা-ও তুমি করেছ, সেইজন্য চতুর্থ পুরুষ পর্যন্ত তোমার বংশধরেরা ইস্রায়েলের সিংহাসনে বসতে পারবে।” 31তবুও যেহূ সমস্ত অন্তর দিয়ে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আইন-কানুন মেনে চলবার দিকে সতর্ক হলেন না। যারবিয়াম ইস্রায়েলকে দিয়ে যে সব পাপ করিয়েছিলেন তা থেকে তিনি সরে আসলেন না।
32-33সেই সময় থেকে সদাপ্রভু ইস্রায়েল দেশের সীমা ছোট করতে লাগলেন। হসায়েল ইস্রায়েলীয়দের দেশের যর্দন নদীর পূর্ব দিকের সমস্ত জায়গায় তাদের হারিয়ে দিতে লাগলেন। সেই জায়গা হল অর্ণোন উপত্যকার পাশে অরোয়ের পর্যন্ত সমস্ত গিলিয়দ ও বাশন দেশ। এটা ছিল গাদ, রূবেণ ও মনঃশির এলাকা।
34যেহূর অন্যান্য সমস্ত কাজের কথা এবং যুদ্ধে তাঁর জয়ের কথা “ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস” নামে বইটিতে লেখা আছে। 35পরে যেহূ তাঁর পূর্বপুরুষদের কাছে চলে গেলেন এবং তাঁকে শমরিয়াতে কবর দেওয়া হল। তাঁর জায়গায় তাঁর ছেলে যিহোয়াহস রাজা হলেন। 36যেহূ শমরিয়াতে আটাশ বছর ইস্রায়েলের উপর রাজত্ব করেছিলেন।
اکنون انتخاب شده:
২ রাজাবলি 10: SBCL
هایلایت
کپی
مقایسه
به اشتراک گذاشتن
می خواهید نکات برجسته خود را در همه دستگاه های خود ذخیره کنید؟ برای ورودثبت نام کنید یا اگر ثبت نام کرده اید وارد شوید
© The Bangladesh Bible Society, 2000
২ রাজাবলি 10
10
আহাবের বংশের লোকদের মৃত্যু
1শমরিয়াতে আহাবের সত্তরজন বংশধর ছিল। যেহূ চিঠি লিখে শমরিয়াতে যিষ্রিয়েলের শাসনকর্তাদের কাছে, বৃদ্ধ নেতাদের কাছে এবং আহাবের বংশধরদের রক্ষকদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি লিখেছিলেন, 2-3“আপনাদের মনিবের বংশধরেরা আপনাদের কাছে আছে এবং রথ, ঘোড়া, দেয়াল-ঘেরা শহর আর অস্ত্রশস্ত্রও আছে। কাজেই এই চিঠি পাওয়ামাত্র আপনাদের মনিবের সব চেয়ে ভাল ও যোগ্য বংশধরকে বেছে নিয়ে আহাবের সিংহাসনে বসান, তারপর মনিবের বংশের জন্য যুদ্ধ করুন।”
4কিন্তু তাঁরা ভীষণ ভয় পেয়ে বললেন, “দু’জন রাজা যখন যেহূর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারলেন না তখন আমরা কি করে পারব?”
5কাজেই রাজবাড়ীর পরিচালক, শহরের শাসনকর্তা, বৃদ্ধ নেতারা এবং আহাবের বংশধরদের রক্ষকেরা যেহূকে এই কথা বলে পাঠালেন, “আমরা আপনার দাস। আপনি যা বলবেন আমরা তা-ই করব। আমরা কাউকেই রাজা করব না; আপনি যা ভাল মনে করেন তা-ই করুন।”
6তখন যেহূ তাদের কাছে এই বলে দ্বিতীয় চিঠি লিখলেন, “আপনারা যদি আমার পক্ষে থাকেন এবং আমার আদেশ পালন করতে চান তবে আপনাদের মনিবের বংশধরদের মাথাগুলো কেটে নিয়ে আগামী কাল এই সময়ে যিষ্রিয়েলে আমার কাছে চলে আসুন।”
আহাবের সেই সত্তরজন বংশধর তখন শহরের প্রধান লোকদের কাছে ছিল। তাঁরা তাদের দেখাশোনা করতেন। 7যেহূর চিঠিটা পৌঁছাবার পর সেই লোকেরা সেই সত্তরজনের সবাইকে ধরে মেরে ফেললেন। তারপর টুকরিতে করে মাথাগুলো যিষ্রিয়েলে যেহূর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। 8তখন একজন লোক এসে যেহূকে বলল, “ওরা তাদের মাথা নিয়ে এসেছে।”
তখন যেহূ হুকুম দিলেন, “ওগুলো দু’টা গাদা করে শহর-ফটকে ঢুকবার পথে সকাল পর্যন্ত রেখে দাও।”
9পরের দিন সকালে যেহূ বাইরে গেলেন। তিনি সমস্ত লোকদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, “আপনাদের কোন দোষ নেই। আমিই আমার মনিবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে মেরে ফেলেছি, কিন্তু এদের সবাইকে মারল কে? 10আপনারা জেনে রাখুন, আহাবের বংশের বিরুদ্ধে সদাপ্রভুর বলা একটা কথাও মিথ্যা হবে না। সদাপ্রভু তাঁর দাস এলিয়ের মধ্য দিয়ে যা করবার কথা বলেছিলেন তা করেছেন।” 11পরে যেহূ যিষ্রিয়েলে আহাবের বংশের বাকী লোকদের, তাঁর সমস্ত গণ্যমান্য লোকদের, তাঁর বিশেষ বন্ধুদের এবং তাঁর পুরোহিতদের মেরে ফেললেন। তাঁদের আর কেউ বেঁচে রইলেন না।
12-13এর পর যেহূ বের হয়ে শমরিয়ার দিকে চললেন। পথে রাখালদের গ্রাম বৈৎ-একদে যিহূদার রাজা অহসিয়ের বংশের কয়েকজন লোকের সংগে তাঁর দেখা হল। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনারা কারা?” তারা বলল, “আমরা অহসিয়ের বংশের লোক। আমরা রাণী ঈষেবলের সন্তানদের ও রাজপরিবারের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি।”
14তখন যেহূ হুকুম দিলেন, “ওদের জীবন্ত ধর।” লোকেরা তাদের জীবন্তই ধরল এবং সেখানকার কূয়ার কাছে তাদের মেরে ফেলল। তারা সংখ্যায় ছিল বিয়াল্লিশজন। তাদের মধ্যে একজনকেও তিনি বাঁচিয়ে রাখলেন না।
15সেখান থেকে চলে যাবার পর রেখবের ছেলে যিহোনাদবের সংগে যেহূর দেখা হল। তিনি যেহূর সংগে দেখা করতে আসছিলেন। যেহূ তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বললেন, “আমি যেমন আপনার পক্ষে আছি তেমনি আপনিও কি আমার পক্ষে আছেন?”
উত্তরে যিহোনাদব বললেন, “হ্যাঁ, আছি।”
যেহূ বললেন, “যদি তা-ই হয় তবে আপনার হাত বাড়িয়ে দিন।” যিহোনাদব তা-ই করলেন আর যেহূ তাঁকে রথে তুলে নিলেন। 16তারপর যেহূ বললেন, “আমার সংগে আসুন এবং সদাপ্রভুর জন্য আমার আগ্রহ কতখানি তা দেখুন।” এই বলে তিনি তাঁকে তাঁর রথে করে নিয়ে চললেন।
17যেহূ শমরিয়াতে এসে আহাবের বংশের বাদবাকী সব লোকদের মেরে ফেললেন। সদাপ্রভু এলিয়কে যেমন বলেছিলেন সেই অনুসারেই যেহূ তাদের ধ্বংস করলেন।
বাল দেবতার পুরোহিতদের মৃত্যু
18তারপর যেহূ সমস্ত লোকদের জড়ো করে তাদের বললেন, “আহাব বাল দেবতার পূজা সামান্যই করেছেন, কিন্তু যেহূ তাঁর পূজা করবে অনেক বেশী। 19এখন বাল দেবতার সব নবী, পূজাকারী ও পুরোহিতদের আপনারা ডেকে আনুন। দেখবেন যেন কেউ বাদ না পড়ে, কারণ বাল দেবতার উদ্দেশে আমি একটা মস্ত বড় পশুবলির ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। এতে কেউ যদি না আসে তবে তাকে মেরে ফেলা হবে।” কিন্তু আসলে যেহূ বাল দেবতার পূজাকারীদের ধ্বংস করবার জন্যই এই ছলনা করছিলেন।
20যেহূ বললেন, “বাল দেবতার উদ্দেশে একটা সভা ডাকা হোক।” কাজেই সেই কথা লোকেরা ঘোষণা করে দিল। 21যেহূ তখন ইস্রায়েলের সব জায়গায় খবর পাঠালেন। তাতে বাল দেবতার সমস্ত পূজাকারীরা এসে হাজির হল, কেউই অনুপস্থিত রইল না। তারা বাল দেবতার মন্দিরে ঢুকলে পর এমন ভিড় হল যে, মন্দিরের এপাশ থেকে ওপাশ পর্যন্ত লোকে ভরে গেল। 22তখন যেহূ পোশাক-রক্ষককে বললেন, “বাল দেবতার পূজাকারী সকলের জন্য পোশাক নিয়ে আসুন।” তাতে সে তাদের জন্য পোশাক বের করে আনল।
23তারপর যেহূ ও রেখবের ছেলে যিহোনাদব বাল দেবতার মন্দিরে ঢুকলেন। যেহূ বাল দেবতার পূজাকারীদের বললেন, “আপনারা ভাল করে খুঁজে দেখুন যাতে সদাপ্রভুর দাসদের মধ্যে কেউ এখানে আপনাদের মধ্যে না থাকে, শুধু বাল দেবতার পূজাকারীরাই থাকবে।”
24তখন তাঁরা পশুবলি ও পোড়ানো-উৎসর্গের অনুষ্ঠান করতে গেলেন। যেহূ আশিজন লোককে এই বলে সাবধান করে দিয়ে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন, “আমি তোমাদের হাতে যাদের ভার দিচ্ছি তাদের একজনকেও যদি কেউ পালিয়ে যেতে দেয় তবে পালিয়ে যাওয়া লোকের প্রাণের বদলে তার প্রাণ যাবে।”
25যেহূ পোড়ানো-উৎসর্গের অনুষ্ঠান শেষ করবার সংগে সংগে পাহারাদার ও সেনাপতিদের হুকুম দিলেন, “তোমরা ভিতরে ঢুকে ওদের মেরে ফেল; একজনও যেন পালিয়ে যেতে না পারে।” তখন তারা তলোয়ার দিয়ে তাদের কেটে ফেলল। পাহারাদার ও সেনাপতিরা মৃতদেহগুলো মন্দিরের বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ভিতরের ঘরে গেল। 26বাল দেবতার মন্দির থেকে পূজার পাথরগুলো তারা বের করে এনে পুড়িয়ে দিল। 27তারপর তারা বাল দেবতার পূজার পাথরটা চুরমার করে দিল এবং মন্দিরটা ভেংগে ফেলল। লোকেরা তখন থেকে আজ পর্যন্ত সেটাকে পায়খানা-ঘর হিসাবে ব্যবহার করে আসছে।
28এইভাবে যেহূ ইস্রায়েলের মধ্যে বাল দেবতার পূজা বন্ধ করে দিলেন। 29কিন্তু নবাটের ছেলে যারবিয়াম ইস্রায়েলকে দিয়ে যে সব পাপ করিয়েছিলেন তা থেকে তিনি সরে আসেন নি। সেটা হল বৈথেল ও দানে সোনার বাছুরের পূজা করা।
30সদাপ্রভু যেহূকে বললেন, “আমার চোখে যা ন্যায্য তা করে তুমি ভাল করেছ এবং আহাবের বংশের প্রতি আমি যা করতে চেয়েছি তা-ও তুমি করেছ, সেইজন্য চতুর্থ পুরুষ পর্যন্ত তোমার বংশধরেরা ইস্রায়েলের সিংহাসনে বসতে পারবে।” 31তবুও যেহূ সমস্ত অন্তর দিয়ে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আইন-কানুন মেনে চলবার দিকে সতর্ক হলেন না। যারবিয়াম ইস্রায়েলকে দিয়ে যে সব পাপ করিয়েছিলেন তা থেকে তিনি সরে আসলেন না।
32-33সেই সময় থেকে সদাপ্রভু ইস্রায়েল দেশের সীমা ছোট করতে লাগলেন। হসায়েল ইস্রায়েলীয়দের দেশের যর্দন নদীর পূর্ব দিকের সমস্ত জায়গায় তাদের হারিয়ে দিতে লাগলেন। সেই জায়গা হল অর্ণোন উপত্যকার পাশে অরোয়ের পর্যন্ত সমস্ত গিলিয়দ ও বাশন দেশ। এটা ছিল গাদ, রূবেণ ও মনঃশির এলাকা।
34যেহূর অন্যান্য সমস্ত কাজের কথা এবং যুদ্ধে তাঁর জয়ের কথা “ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস” নামে বইটিতে লেখা আছে। 35পরে যেহূ তাঁর পূর্বপুরুষদের কাছে চলে গেলেন এবং তাঁকে শমরিয়াতে কবর দেওয়া হল। তাঁর জায়গায় তাঁর ছেলে যিহোয়াহস রাজা হলেন। 36যেহূ শমরিয়াতে আটাশ বছর ইস্রায়েলের উপর রাজত্ব করেছিলেন।
اکنون انتخاب شده:
:
هایلایت
کپی
مقایسه
به اشتراک گذاشتن
می خواهید نکات برجسته خود را در همه دستگاه های خود ذخیره کنید؟ برای ورودثبت نام کنید یا اگر ثبت نام کرده اید وارد شوید
© The Bangladesh Bible Society, 2000