YouVersion Logo
Search Icon

উপদেশক 2

2
1স্থির করলাম, এবার আমি ভোগবিলাসের আনন্দমেলায় দেখব খুঁজে কোথায় প্রকৃত সুখ! কিন্তু হায়, তাও বোঝা দায়! 2বুঝলাম, এ স্ফূর্তি মত্ততা, এ হাসি প্রলাপ মাত্র, এ সুখ অর্থহীন! 3প্রজ্ঞার নির্দেশে আমি স্থির করলাম, মদিরা পানে কি আনন্দ আমি তা-ও দেখব পরখ করে। ভেবেছিলাম, মানুষের ছোট্ট জীবনখানি এ পৃথিবীতে কাটিয়ে যাবার এই হল পথ।
4আমি অনেক মহৎ কাজ করলাম, নিমার্ণ করলাম অট্টালিকা, রচনা করলাম দ্রাক্ষাকুঞ্জ।#১ রাজা 10:23-27; ২ বংশা 9:22-27 5-6ফুলে ফুলে আমি বাগান সাজালাম, সেচনের জন্য তৈরী করলাম জলের আধার। 7আমি সংগ্রহ করলাম বহু দাসদাসী, আমার গৃহে যে দাসদাসী ছিল, তাদেরও বংশবৃদ্ধি হল। জেরুশালেমে আমার মত এত পশুসম্পদ আর কারও ছিল না কোনদিন।#১ রাজা 4:23 8আমার অধীন দেশ ও রাজ্যগুলি থেকে আমি আহরণ করেছিলাম প্রচুর সম্পদ—সোনা ও রূপো। আমার মনোরঞ্জন করত গায়ক ও গায়িকার দল, সঙ্গদানের জন্য যত নারী প্রয়োজন, সবই ছিল আমার।#১ রাজা 10:10,14-22
9আমি ছিলাম মহান, এর আগে যাঁরা জেরুশালেমে ছিলেন, সেই পূর্বসূরীদের চেয়েও মহান ছিলাম আমি, সর্বকর্মে প্রজ্ঞাই ছিল আমার পথ প্রদর্শক।#১ বংশা 29:25 10আমি যা চেয়েছি, পেয়েছি সবই। কোনও আনন্দ থেকে আমি বঞ্চিত করি নি নিজেকে। আমার সমস্ত কাজের জন্য গর্ব অনুভব করতাম আমি, মনে করতাম, এ সবই আমার কাজের পুরস্কার। 11পরে আমি হিসেব করে দেখলাম, কঠোর পরিশ্রমে কত না ফসল তুলেছি ঘরে, তবু যা চেয়েছি আমি, তার সবই অধরাই রয়ে গেছে, এ যেন আলেয়ার পিছনে ছোটা! 12একজন রাজা যা করে যান, তাঁর পরবর্তী রাজার কার্যাবলী বিচার করে দেখা যায়, তিনি পথ চলেছেন তাঁর পূর্বসূরী রাজারই কর্মধারায়। এবার আমি বিজ্ঞ, বেপরোয়া ও নির্বোধ—এই তিন শ্রেণীর মানুষের মধ্যে পার্থক্য কোথায়, তা বোঝার চেষ্টা করলাম। 13বুঝলাম, অন্ধকারের চেয়ে আলো যেমন শ্রেয়, মূর্খতার চেয়ে তেমনই শ্রেয় প্রজ্ঞা। 14জ্ঞানবান সঠিক পথে চলে আর মূর্খ চলে ভুল পথে কিন্তু তবুও বলি, এই দুয়েরই পরিণতি এক। 15তখন আমি ভাবলাম, মূর্খের যে পরিণাম, আমারও সেই একই পরিণাম! তবে আমার কি লাভ হল এত জ্ঞান অর্জন করে? আশ্চর্য! বুঝতে পারি না- কোথায় এর উত্তর? 16জ্ঞানী হোক বা মূর্খই হোক, মানুষ সবাইকে ভুলে যায়, স্মৃতি লুপ্ত হয়ে যায় সকলেরই। জ্ঞানী ও মূর্খ উভয়েরই মৃত্যু হয়। 17তাই সংসারে আমার এল বিতৃষ্ণা, কারণ জগতের সব কিছুই পীড়াদায়ক আমার পক্ষে, সবই অলীক! এ যেন আলেয়ার পিছনে ছোটা!
18এ জগৎ সংসারে কঠোর পরিশ্রমে আমি যা কিছু করেছি অর্জন, এতে আমার কি লাভ হল? কে দেবে উত্তর? কারণ আমায় সবই রেখে যেতে হবে, উত্তরপুরুষের জন্য। 19কে জানে সেই উত্তরপুরুষ কেমন হবে? জ্ঞানী অথবা মূর্খ? তথাপি প্রজ্ঞা ও পরিশ্রমে আমি যা কিছু করেছি অর্জন, সে-ই হবে তার মালিক। হায়, এতে আমার করার কিছুই নেই! 20ব্যর্থ আমার সারাজীবনের পরিশ্রম, হতাশার বেদনায় আজ মন আমার ভারাতুর! 21মানুষ জ্ঞান, বুদ্ধি ও দক্ষতায় যা কিছু অর্জন করে, তার সবই তাকে রেখে যেতে হয় এমন কারও জন্যে যে তার জন্য কিছু করেনি কখনও। এ কি নিষ্ঠুর পরিহাস! 22সারা জীবনের এত শ্রম, এত উৎকণ্ঠা, তার বিনিময়ে মানুষ কি লাভ করে এ সংসারে? 23সারাটি জীবন ধরে সে যা কিছু করে, তাতে লাভ নেই কিছু, বাড়ে শুধু দুঃখের পসরা, নিদ্রাহীন রাত কাটে বেদনায়। দুর্বোধ্য এ সবই, সবই রহস্যময়!#ইয়োব 5:7; 14:1
24ভোজনে, পানে আর আত্মবিনোদনে আপন উপার্জিত ধন ভোগ করাই তো মানুষের কর্ম। অবশেষে বুঝলাম, এ সবই নির্ধারণ করেছেন ঈশ্বর তার জন্য।#উপ 3:13; 5:18; 9:7; লুক 12:19; ১ করি 15:32 25তাঁর অনুগ্রহ বিনা কে পারে জীবন উপভোগ করতে? 26যে জন সুজন প্রিয় পাত্র তাঁর, তার আরাধ্য ঈশ্বর তাকে দেন প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও সুখ অপার। কিন্তু দুর্জনকে নিয়োগ করেন তিনি উপার্জন এবং সঞ্চয় করার কর্মে, যেন ঈশ্বরের প্রিয়জনেরা লাভ করতে পারে সেই বঞ্চিত ধন। এ-ও রহস্যময়, বৃথা এ সব বোঝার চেষ্টা!#ইয়োব 32:8; হিতো 2:6

Highlight

Copy

Compare

Share

None

Want to have your highlights saved across all your devices? Sign up or sign in